সফলতার 17 টি মাস্টার্স পয়েন্ট/জেনে নিন / বুঝে নিন ।

সফলতা এমন কোন বস্তু নয় যেটা ক্যাপসুল এর মত খেয়ে নেব এবং পরদিন থেকে সফলতা আমার চারদিকে বিরাজ করবে। অনেকেই এটা মনে করেন, সফলতা হয়তো একা একাই আমাদের জীবনে এসে পড়বে। সেটা কিন্তু কখনোই হবে না। সফলতা হলো একটা মানুষের কায়মনো বাক্যে প্রার্থনা করা কোন বস্তু যেটা পাবার জন্য সে দিনের পর দিন বেশ কিছু নিয়ম কানুন কঠোরভাবে প্রতিপালন করে থাকে।

সফলতার  মাস্টার্স পয়েন্ট
সফলতার মাস্টার্স পয়েন্ট

সফলতা চাইলে মেনে চলুন

যে ছেলেটা ক্লাসে ফার্স্ট হয়, সে কিন্তু এমনি এমনি ফাস্ট হয়ে যায় না। তার জন্য দিনের পর দিন কঠোর অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে সময়টা পার করতে হয়। যে ছেলেটা এবার মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে ফার্স্ট হয়েছে তাকে জিজ্ঞাসা করুন তো, কিভাবে সে এটা অ্যাচিভ করল ?

সে যেটা বলবে সেটা আমরা সকলেই প্রায় জানি, সে বলবে এর জন্য প্রথম হওয়ার জন্য সে কখনোই পরিশ্রম করেন করেনি, সে শুধুমাত্র মন দিয়ে তার অনুশীলনটি করে গেছে দিনরাত এক করে। সবাই যখন ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছে, সে কিন্তু মোবাইলের মাধ্যমে তার সফলতার পাবার জন্য অনুশীলন করেছেন। সবাই যখন মেলা খেলায় মেতে উঠেছে, সে কিন্তু সেগুলো না করে নিজের উদ্দেশ্য লক্ষ্যর দিকে একাগ্র চিত্রে চেষ্টা চালিয়ে গেছে। অর্থাৎ সফলতা ম্যাজিকের মতো তার হাতে ধরা দেয় নাই। সফলতা কে সে তার জীবনে ধরা দিতে বাধ্য করেছে।

সেজন্য আমরাও যদি আমাদের জীবনের কোথাও সফলতা পেতে চাই তাহলে আমাদের কঠোর অনুশীলন করতে হবে নিয়ম মেনে।

কি কি করলে আমাদের সফলতা দ্রুত আমাদের কর আয়ত্ত্ব হবে, সে বিষয়ে কতগুলো সূত্র আমরা আলোচনা করতে পারি।

যদি আমরা এইগুলো দিনের পর দিন আমাদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে সফলতা আমরা পাবই পাব।

চলুন দেখা যাক বিষয় গুলি কি কি ?

1.আপনাকে খুব ভালো ভালো বই পড়তে হবে। Road Map বানিয়ে ফেলতে হবে।

আজ থেকে পাঁচ বছর পর আপনি কোথায় পৌঁছতে চান , নিজেকে কোথায় দেখতে চান ? সেটা নির্ভর করবে এখন আপনি কী ধরনের বই পড়ছেন, কোন ধরনের মানুষের সাথে মেলামেশা করছেন, কতটা সময় ব্যয় করছেন, কিভাবে সময় ব্যয় করছেন তার উপর।

2. ৯৫% কঠোর পরিশ্রম

প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এডিসনের মতে , সাফল্য হলো ৯৫% কঠোর পরিশ্রম আর ৫% অনুপ্রেরণার ফল। সেজন্য সফলতা পাবার জন্য, সঠিক রোড ম্যাপ অনুযায়ী কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সাফল্যের ক্ষেত্রে, কঠোর পরিশ্রমের কোন বিকল্পই নেই।

3.বই পড়ুন

. যে ব্যক্তি পড়তে পারে কিন্তু পড়ে না ,আর যে ব্যক্তি পড়তে পারে না দুই জনই সমান। সেজন্য বই পড়ার অভ্যাস থাকুক বা না থাকুক, সফলতা পাবার জন্য আমাদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতেই হবে। কোন বই পড়বো ? যে বই আমাদের সফলতাকে কাছে পাবার রাস্তা বাতলে দেয়। যে কোনো হাবিজাবি বই পড়লে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না। ভালো বই পড়াটাকে আমাদের ডেইলি রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। প্রথম প্রথম হয়তো বই পড়তে ততটা ভালো লাগবে না, ভালো না লাগলেও আস্তে আস্তে চেষ্টা করলে এক সময় ঠিক অভ্যাসে পরিণত হবে। এমন হবে যে, আপনি বইয়ের সঙ্গ ছাড়া সময় কাটানোর কথা ভাবতেই পারবেন না।

4. ইমপ্রেশন

একটা কথা খুবই প্রচলিত আছে, যে কোন কাজের ক্ষেত্রে ফার্স্ট ইমপ্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোন কথা বলার আগেই একজনের সাথে সাক্ষাত হওয়ার তিন থেকে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যেই তার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়ে যায়। We never get a 2nd chance to make the first impression.

সেজন্য ব্যবসার ক্ষেত্রে যখন আমরা কোন ক্লায়েন্ট বা কাস্টমার মিট করব তখন এমন কিছু করবো না, যাতে আমার প্রতি তার ধারণাটাই খারাপ হয়ে যায়। ব্যবসায় সফলতার জন্য আমাদের ইমপ্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি কোন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমার মাইন্ড ভীষণ ডিস্টার্ব আছে। এসব যেন কাস্টমারের চোখে কখনোই ধরা না পড়ে। যা হবে আমার মনের ভেতর। ভিতরে কি চলছে সেটার বহিঃপ্রকাশ যেন বাইরে কখনোই না হয়। এতে আমাদের ইমপ্রেশন খারাপই হবে। আর ইমপ্রেসন একবার খারাপ হয়ে গেলে, সেটা পুনরুদ্ধার করা কিন্তু খুব সহজ বিষয় নয়।

বিফলতার সিঁড়ি
বিফলতার সিঁড়ি

5.বিফলতার সিঁড়ি

আপনি কী অর্জন করেছেন, সাফল্য মাপার মানদন্ড সেটা নয় বরং আপনি পড়ে যাওয়ার পর কতবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সেটাই আসল বিষয়। আমরা যদি জীবনে ভীষণ সফল হয়েছে এরকম মানুষের বিষয়ে পড়াশোনা করি, সেখানে দেখা যাবে সেই মানুষটা কিন্তু একবারেই আজকের সফলতা অর্জন করতে পারেননি। এই সফলতা অর্জন করার জন্য তাকে বহুবার বিফলতার সিঁড়ি চড়তে হয়েছে। বহুবার তাকে রক্তাক্ত হতে হয়েছে, বহু অপমান সহ্য করতে হয়েছে, বহুবার হতাশ হতে হয়েছে। তারপরেও তাকে তার উদ্দেশ্য লক্ষ্য থেকে বিরত করা যায়নি বলেই তিনি আজ সফলতার শীর্ষে।সফলতার বিষয়ে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আমরা যখন একবার দুবার বিফল হই, তখন কয়েকজন নেগেটিভ মানুষের কথাবার্তা শুনে আমরা কিন্তু আমাদের সাফল্যের পথ থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে আনি। আর যে ব্যক্তি সফলতার পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে আনবে, তাহলে সে সফলতা কিভাবে পাবে ? তাই সফলতা পাওয়ার জন্য চাই। স্ট্রং মাইন্ড সেট। হবে যার মাইন্ডসেট ট্রম হবে তাকে কোনোভাবেই তার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করা সম্ভব নয়।

6. পরাজয়

এটা আমাদের মনে রাখা উচিত, পরাজয়ের ভয়, পরাজয়ের চেয়েও খারাপ। কারণ আমরা যদি যুদ্ধ শুরুর আগেই হেরে গিয়ে বসে থাকি তাহলে সে যুদ্ধে জয় কখনোই সম্ভব নয় । তেমনি আমাদের জীবনেও কোন কিছু পাওয়ার জন্য মরণ পন করে ঝাপাতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা আমাদের উদ্দেশ্য লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছি। ততক্ষণ আমরা যেন থেমে না পড়ি।, চেষ্টা করে হারার মধ্যে কোন লজ্জা নেই। বরং বিনা যুদ্ধে হেরে যাওয়ায় ভীষণ লজ্জার।

সফলতা পেতে হলে আমাদের মনকে ভীষণ শক্ত করতে হবে। আমরা যেটা চাইছি সেই বিষয়ের ধারণাও স্বচ্ছ থাকতে হবে। আমাদের চাওয়া এবং সেটা অর্জন করার মাঝখানে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা না আসে, সেটা আমাদের ভীষণভাবে নজরে রাখতে হবে। আমরা যদি পড়ে গিয়ে, উঠে দাঁড়িয়ে আবার এগিয়ে যাওয়ার সাহস বা ইচ্ছা আমাদের মধ্যে লালন করতে পারি, তাহলে পরাজয় আমাদের থেকে দূরে পালাবে।

7. বিশ্লেষণ

মনে রাখতে হবে একটা পরাজয় আরো পরাজয়ের জন্ম দেয়। পরাজিত ব্যক্তি যখন আবার লড়াই করার আগে ভাবে আবারও তার পরাজয় নিশ্চিত, তখন সত্যিই তার পরাজয় ঘটে, কারণ প্রত্যেকটা পরাজয়ের সাথে ব্যক্তি তার আত্ম-মূল্য হারিয়ে ফেলে যেটা পরবর্তী পরাজয়ের কারণ। সেজন্য আমরা যখনই কোন বিষয়ে অসফল হব, সেই অসফল বিষয়টি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে, অসফলতার কারণগুলি নির্দিষ্ট করতে হবে। এবং এবার আমি নিশ্চিতভাবে সফল হব এই মানসিক জোর নিয়ে আবার লড়াইয়ের মাঠে নিজেকে তুলে ধরতে হবে। তাহলেই আমাদের জয় নিশ্চিত হবে।

8. বিশ্বাসের জন্ম

যারা পরাজিত হয় বা অসফল হয়, তাদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তারা যেন পরাজিত হওয়ার অপেক্ষাতেই রয়েছে । তারা যে অসফল হবে এটা যেন পূর্বনির্ধারিত । এই মানসিক অবস্থা নিয়েই তাদের এগিয়ে চলা , সেজন্য তারা জীবনে নতুন কিছু হটাতে পারে না বরং তারা খারাপ কোন কিছু ঘটার অপেক্ষায় থাকে। তারা যে কখনো মিরাক্কেল ঘটাতে পারে না, এই বিশ্বাস তাদের মনে কখনো জন্মই নেয় না। বলা যেতে পারে এই বিশ্বাস জন্ম নেওয়ার অবস্থায় তারা তৈরি করতে পারে না।

ভালো ভালো মানুষের সঙ্গ, পজেটিভ বই, এই বিশ্বাস জন্ম নিতে সাহায্য করে।

আমরা যখন ১০০% জেতার মানসিকতা নিয়ে, কোন কাজে আত্মনিয়োগ করবো সেখানে সফলতা লাভ করার সুযোগ থাকে 100% .

দেখবেন, অনেকেই বলে থাকেন, এই কাজ কি আমি পারবো! এই কাজ কি আমার দ্বারা হবে ? এটা যাদের মানসিকতা তারাই আসলে পরাজিত। আপনি কোন দলে নাম লেখাতে চান, সেটা আপনার বিবেচনার বিষয় !

পরজীবী বড় লজ্জার
পরজীবী বড় লজ্জা

9.পরজীবী

আমাদের মধ্যে বেশ কিছু মানুষ আছে যারা আশা করে , কোন এক দেবদূত এসে সবকিছু তৈরি করে তার সামনে হাজির করবে । আর সে সেটা এনজয় করবে মন খুলে । এরকম কিন্তু কোনই হয় না । যাদের জীবনে এরকম ঘটে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অসফল এবং হতাশ জীবন যাপন করে । এরা জীবনে কিছু ই করতে পারে না। সবকিছুর জন্যই অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে । অনেকটা পরজীবীর মত। এদেরকে প্যারাসাইট বলা হয়। মানুষ এদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখে।

এছাড়াও আর এক ধরনের মানুষ আছে যারা, তাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু নিজের ক্ষমতার জোরে তৈরি করে নেয়, আদায় করে নেয়। এরা কোন কিছুর জন্যই ভাগ্যকে দোষারোপ করেন না না, বরং নিজের ভাগ্যের লেখাটাকে যেন নিজের হাতেই লিখে নেন মনের মত করে। মানুষ এদেরকে সম্মান করে। এদেরকেই শ্রদ্ধা করে। এদেরকেই উদাহরণ হিসেবে মানুষের কাছে তুলে ধরে।

আমাদের মনে রাখতে হবে তখন এবং অসফল দু’ধরন দু ধরনের মানুষই সারাদিনে ২৪ ঘন্টা সময় পান। কেউ সেটা অলসভাবে, ঘুমিয়ে ,অকাজে অতিবাহিত করে। আবার কেউ ওই ২৪ ঘন্টারই পুরোপুরি ফায়দা ত তুলে নিজেকে গুছিয়ে নেয়।

এখানেও একই প্রশ্ন এসে যায়, আপনি নিজেকে কোন দলে দেখতে চান ?

10. No = Next Opportunity.

আমরা কোন কাজ শুরু করে যখন কারো কাছে একবার No শুনি , তখনই ভেঙে পড়ি, মুষরে পড়ি । আপনি কি এটা মনে করেন, আপনি যে কাজ করবেন, বা যে আবেদন কারোর কাছে রাখবেন, সব ক্ষেত্রেই উত্তর হবে Yes ? এটা যদি ভাবেন তাহলে আপনি মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন ।

আমরা কোন কাজ যখন একদম প্রথমে শুরু করি, তখন সেই বিষয়ে আমাদের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা কম থাকে , সেজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা উল্টো দিক থেকে No শুনে থাকি । No শুনতে আমাদের কারোরই ভালো লাগেনা ।

আজ জেনে নিন NO মানে কিন্তু একেবারে না নয়। NO = Next Opportunity. অর্থাৎ আমাকে কেউ একজন No বলল এবং আমি হতাশ হয়ে থেমে গেলাম, সেটা কিন্তু একেবারেই না। কেউ একজন No বললো তার মানে আমাকে অন্য আরেকজনের কাছে যেতে হবে। এইভাবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি আমার লক্ষ্য পূরণ করতে না পাচ্ছি ,ততক্ষণ আমি বা আমরা কখনোই থামবো না।

কেন থামবো না ? কারণ–আমরা সফলতা চাই, আমাদের নিজের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য, পরিবারকে ভালো রাখার জন্য—।

কেউ একজন আমাকে না বলছে মানে সে চাইছে না আমার স্বপ্ন পূরণ হোক, কিংবা আমার পরিবারের লোকজন ভাল থাক। এবং সেই চাওয়াকে যদি আমি মান্যতা দিই, তাহলে থেমে গেলে ক্ষতি নেই।

কিন্তু ,আমরা তো চাইছি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে,সেজন্যই কোন বাধাতেই আমরা থামবো না। বরং কেউ No বললে, আমরা আবার নতুন উদ্যমে, নতুন নতুন আশা নিয়ে, অন্য একজন মানুষের কাছে যাও যাব। বা আবার নতুনভাবে, নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।

এই প্রক্রিয়া কতক্ষণ চলবে ? যতক্ষণ পর্যন্ত না আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। বা আমি সফল হচ্ছি।

You must have follow this.
You must have follow this.

11. Attitude.

জীবনে সফলতা পাওয়ার জন্য Attitude একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এই Attitude. দুই ধরনের ইন্টারনাল অ্যাটিটিউড এবং এক্সটার্নাল অ্যাটিটিউড।

এই Attitude. আসে কনফিডেন্স থেকে। কনফিডেন্স আসে ভালো ভালো মানুষের নলেজ থেকে এবং ভালো ভালো বই থেকে। ভালো বই এবং ভালো মানুষের কাছ থেকে যে সমস্ত পরামর্শ বা নলেজে আমরা পাব সেগুলো যদি আমাদের চলার পথে আমরা প্রয়োগ করতে পারি তাহলে সাফল্য আসবেই। ভালো ভালো বই এবং ভালো মানুষ আমাদেরকে চরিত্রবান ,সাহসী ও সৎ মানুষরূপে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

আমাদের ইন্টারনাল অ্যাটিটিউড যদি develop করে, সেগুলো প্রকাশিত হয় আমাদের বাহ্যিক আচরণের মধ্যে। বাহ্যিক আচরণে আমাদের ভদ্রতা, সভ্যতা, মার্জিত রুচি, পরিশীলিত কথাবার্তা—প্রকাশিত হলে মানুষের মধ্যে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। গ্রহণযোগ্যতা বাড়লে আমাদের সাফল্য পাওয়াও অনেক সহজ হয়ে যায়। কারণ আমরা যদি সত্যি ই সৎ সাহসী ও চরিত্রবান হই, সেগুলো আমাদের আচরণের প্রতিফলিত হবেই। এই Attitude সফলতার একটা Strong মাধ্যম।

12. কোথায় গুরুত্ব দিতে হবে !

আমরা যদি জীবনে সফল বা জয়ী হতে চায়, তাহলে আমাদের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব ও নজর দিতে হবে। গুরুত্ব মানে ,করছি করব এইরকম কিন্তু নয় ! গুরুত্ব মানে আমার সাকসেসের যে রোড ম্যাপ তার প্রতিটি স্টেপে যে যে কার্যক্রম গুলো থাকবে সবগুলো ১০০% পালন করতেই হবে। প্রয়োজনে আমাদের মধ্যে যে সমস্ত Skill নেই সেগুলোকেও ডেভেলপ করে নিতে হবে বা শিখে নিতে হবে।

আর যারা হেরে যায়, তারা কিন্তু নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহ রাখে না, যেটুকু জানে সেটুকু নিয়েই লড়াই করতে থাকে, তার ফলে তাদের হার হয় অনিবার্য।

বিপরীত দিকে সফল মানুষের কার্য পদ্ধতি এবং সেগুলোর প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম হয়। কারণ তারা জানে সফলতা তাকে পেতেই হবে। জয় তাকে যেভাবেই হোক ছিনিয়ে আনতেই হবে। এটাই তাদের মাইন্ড সেট। এখান থেকে তাকে টলিয়ে দেয় সে সাধ্য কারো নেই।

13. কর্মপদ্ধতির পরিবর্তন

আমরা অনেক সময়ই বলি, আমার জীবনে সেভাবে সফলতা আসছে না। বা আমি যেরকম ভাবে চাইছি সেভাবে কিছুই হচ্ছে না। কেন এরকম হয় ?

এরকম হবার কারণ, আমাদের গতে বাধা কার্য পদ্ধতি। যার মধ্যে কোন নতুনত্ব নেই। যার মধ্যে কোন উদ্দামতা নেই। যার মধ্যে নেই উন্মাদনা। ফলে, আমরা যে ফলাফল পায় সেটাও গতানুগতিক।

এতদিন পর্যন্ত আমরা যা যা করে এসেছি, এখনো যদি সেই রকম ভাবে ,সেটাই করতে থাকি, তাহলে এখনো সেরকমই কিছু ফল পাব। নতুন কিছু পাবো না।

নতুন বা ভালো কিছু পাবার জন্য, আমাদের অবশ্যই নতুন এবং ভালো কিছু করতে হবে।

14. Relationship build-up

আমাদের জীবনে বা বিজনেসে যদি আমরা সফলতা পেতে চাই এবং সার্বিক উন্নতির পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে চাই। তাহলে, আমাদেরকে আমাদের আশপাশের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার গণ্ডিটাও বাড়িয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এটা একটি অবশ্য কর্তব্য সূত্র। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোটা কিন্তু ম্যাজিকের মত কোন ঘটনা নয়, সে জন্য আমরা আশপাশের মানুষদের সঙ্গে আন্তরিক আলাপচারিতার একটা বাতাবরণ সব সময় তৈরি করার চেষ্টা করবো।

অযথা মানুষের সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়বো না। কোন মানুষ অসম্মানিত হয় বা অপমানিত হয় এইরকম কোন আল-পটকা মন্তব্য যেখানে সেখানে করব না। উল্টে যে সমস্ত আচরণ করলে মানুষ খুশি হয়, সেটা করারই চেষ্টা করব । সেই ধরনের আচার-আচরণে নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।

Will Power is a great power
Will Power is a great power

15. ইচ্ছা শক্তি

আমার যা ইচ্ছা আমি তাই করতে পারি।

আমি যা চাই, সেগুলি সবকিছুই আমি পাব।

যেভাবেই হোক আমি সফলতা অর্জন করবই।

এইগুলো ভাবাটাই কিন্তু ইচ্ছা শক্তি নয়। আর এইভাবে ভাবলে আমাদের কোন স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। সেজন্য আমাদের ইচ্ছা শক্তিকে বাস্তবায়িত করতে হলে চায় একটা Strong Road Map । এবং বিভিন্ন ধরনের Skill অর্জন। যে স্কিল আমাদের সফলতাকে, আমাদের হস্তগত করতে সাহায্য করবে। আর আমরা যখন ক্রমাগত সফল হতে থাকব ,তখন আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ হবে আমাদের ইচ্ছা শক্তির দ্বারা। ইচ্ছাশক্তি কোন ম্যাজিক নয়। এটা হল নিরবচ্ছিন্ন ভাবে , ক্রমাগত কিছু পজিটিভ কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যেটা মোটেই সহজ কাজ নয়। যেটার জন্য আমাদেরকে প্রচুর মেহনত করতে হবে।

একজন সফল মানুষ যখন জীবনে সফলতা অর্জন করে, তখন বাইরে থেকে অন্য মানুষ তার সফলতা দেখতে পায়। তারা যেটা দেখতে পায় না সেটা হল,সেই মানুষটার কর্মকাণ্ড। নিরলস পরিশ্রম। আনন্দ ও অলসতা বিসর্জন।

আমরাও যদি আমাদের জীবনে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে নিজেদেরকে সঁপে দিতে পারি, তাহলে সফলতা আমাদেরও ইচ্ছাধীন হবে।

16. আত্মবিশ্বাস

এটা একটা মজার জিনিস

কেন মজার বললাম ?

কারণ এটা সকলের থাকে না আবার সকলের মধ্যেই থাকে !

তাহলে সকলে সফলতা পায় না কেন ?

তার কারণ হলো এই আত্মবিশ্বাসের সঠিক প্রয়োগ আমরা আমাদের জীবনে করতে পারি না। আমরা যখন ভীষণ উদ্যম নিয়ে কোন কাজ করতে যায়, কিছুটা এগিয়েও যায়, তখন আমাদের আশপাশে বেশ কিছু মানুষ হাজির হয়ে যায়, যারা আমাদের কানের কাছে বলতে থাকে ,এই কাজটা তোমার দ্বারা সম্ভব নয় , তুমি কিছুতেই এই কাজটা পারবে না, এই ধরনের কাজ তোমার না করাই ভালো।

এইসব শুনে আমরাও ওদের মতই ভাবতে শুরু করি, ঠিকই তো, ওরা তো ঠিকই বলেছে ।আমি যে চেষ্টা করছি , কোন ফল কি পাচ্ছি ? এখনো তো সেরকম কিছু ফল পেলাম না ! আমরা হতাশ হয়ে চেষ্টা করাটাই ছেড়ে দিই।

হয়তো সফলতার অনেক কাছে আমি পৌঁছে গেছিলাম। কিন্তু আত্মবিশ্বাস না থাকাতে আমরা আর একটু চেষ্টা করাটাই ছেড়ে দিলাম।

অপর একটি মানুষ, যে ক্রমাগত চেষ্টা চালাচ্ছিল কোন কিছু অর্জন করার জন্য। তার কানের কাছেও কিন্তু এই একই কথা বারে বারে উচ্চারিত হয়েছিল। সে কিন্তু তাদের কথায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেনি। বরং তারা যত বারণ করেছিল, তার ওই কাজ করার জেদ তত বেড়ে গেছিল। একটা সময় সে সফলতা অর্জন করে নেয়। কারণ এই মানুষটা ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

আত্মবিশ্বাস আমরা তাকেই বলবো যেটা, আশপাশের মানুষ বাধা দিয়ে বন্ধ করে দিতে পারে না। যেটা অন্যের কথায় পথ পরিবর্তন করে না।

সেজন্যই আমাদের আত্মবিশ্বাসী হতেই হবে। আত্মবিশ্বাসী হওয়ার একটা প্রধান অস্ত্র হলো বই। এবং ইতিবাচক পরিবেশ।

নেতিবাচক মানসিকতার মানুষজনের সঙ্গে যতটা সম্ভব কম মেলামেশা করা উচিত। নেতিবাচক মানুষের কাজ হলো মানুষকে বিপথে চালিত করা। মানুষকে সঠিক পথে এগোতে না দেওয়া। অন্য মানুষের অসফলতা এদের কে ভীষণ খুশি ও আনন্দিত করে। এরা বিকৃত মানসিকতার একটা জীবন্ত লাশ।

পারলে এদের থেকে দূরে থাকুন। এবং যারা জীবনে এগিয়ে চলতে চায় তাদেরকেও এদের থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিন।

17. ভালোবাসা

আমরা যে বিষয়ে সফলতা চাই সেই বিষয়টি অবশ্যই আমাদের ভালোবাসার বিষয় হতে হবে। কোন ব্যবসা বা কোন ক্যারিয়ারে প্রচুর ইনকাম, সেই জন্য সেই কাজটি করতে যাওয়া—-সেখানে কিন্তু সফলতা নাও আসতে পারে। কারণ–যে কাজের মধ্যে আমাদের কোন ভালোবাসা নেই , আন্তরিকতা নেই ,সেটা অল্প কিছু সময় করা গেলেও, দীর্ঘদিন ধরে সেই কাজটি সুন্দরভাবে কখনোই করা সম্ভব না।

যদি আমরা ভালো রেজাল্ট করা ছাত্র-ছাত্রীদের সফলতার বিষয়টি আলোচনা করি, বা কোন সফল মানুষের সফলতার কারণগুলি বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখা যাবে সেই ছাত্র-ছাত্রী বা সফল মানুষটি ওই বিষয়টিকে গভীরভাবে ভালোবেসে অনুশীলন করেছেন।

Love-Love-Love
Love-Love-Love

যে বিষয়কে ভালোবাসা যায় সেই বিষয়ে জন্য দিনরাত এক করে পরিশ্রম করা যায়। ওই বিষয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা আমাদের ক্লান্তিকে দূর করে দেয়। নতুন কিছু পাবার আনন্দ, আমাদেরকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করে এই ভালোবাসার জন্য। সেজন্য যদি আমাদের Passion প্রফেশনে Convert হয় , তাহলে সফলতার গতিও দুরন্ত হয়।

যদি আমরা সত্যিই কোন বিষয়ে সফলতা চাই সবার প্রথমে যেটা আমাদের দেখতে হবে, সেটা হল আমি ওই বিষয়টিতে কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি কি না ? কিছু পাওয়ার জন্য বা অন্যকে খুশি করার জন্য বা লোক দেখানোর জন্য আমরা কাজটা করছি নাতো ? এই প্রশ্নটা নিজেকেই করুন ।

উপসংহার

আসলে ,সফলতা এমন কোন ম্যাজিকের মত ব্যাপার নয়। সফলতা কোন ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট নয়। যেটা খেয়ে ফেলুন আর সফলতা পেয়ে যান হাতের মুঠোই । এটা কখনোই হয়নি আর কোনদিনও হবে না।

সেজন্যে জীবনে সফলতা পাওয়ার জন্য এতক্ষণ আমরা যে বিষয়গুলি আলোচনা করলাম বা যে বিষয়গুলি লিখলাম সেগুলো যদি আমাদের জীবনের প্রতিটি Step-এ আমরা প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে কিন্তু সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা বহু অংশেই বেড়ে যাবে।

আমরা যদি মন প্রাণ দিয়ে ভালবেসে, আমাদের উদ্দেশ্যের পথে পাড়ি দেবার চেষ্টা করি ,তাহলে সফল আমরা একদিন হবোই।

এই ধরনের আরো আর্টিকেল পাবার জন্য এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন।

লেখার বিষয়ে আপনাদের কোন পরামর্শ থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। আমি চেষ্টা করব পরবর্তীতে আপনারা যে বিষয়ে জানতে চান বা আর্টিকেল চান সেই বিষয়ে লেখা প্রস্তুত করে দিতে।

এতক্ষণ কষ্ট করে আমার লেখাটা পড়ার জন্য আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। সবশেষে বলবো ,গাছ লাগান, ভালো মানুষদের সঙ্গে মেলা-মেশা করুন, ভালো বই পড়ুন।

অনেক শুভেচ্ছা রইলো
অনেক শুভেচ্ছা রইলো

Leave a Comment