7 টি Business Success Tips. // বিজনেস শুরুর আগে জেনে নিন ।

Business শুরুর আগে

আমাদের চারপাশে আমরা মূলত দুই ধরনের Business দেখি

বিজনেস শুরু করুন// ও বুঝে
বিজনেস শুরু করুন // জেনে ও বুঝে

1. অনলাইন বিজনেস

2. অফলাইন বিজনেস

অফলাইন বিজনেসের দুটি ভাগ সাধারণত আমাদের নজরে আসে। প্রথমটি হল–ঝা চকচকে, বড় বড় Shop বা দোকান -যেমন

  • A . কম্পিউটার সেলস অ্যান্ড সার্ভিস
  • B . রেস্টুরেন্ট
  • C . গার্মেন্টস
  • D , ইলেকট্রিক গ্যাজেট
  • E . জুতোর দোকান
  • F . শপিং মল
  • G . বুটিক,–ইত্যাদি ইত্যাদি।

দ্বিতীয় টি হল–ছোটখাটো ব্যবসা বা বিজনেস।

যেগুলি অনেকেই শুরু করতে লজ্জা পাবেন। এমনকি সেগুলি যে আদৌ কোন Business সেটা ভাবতেই নিজের মধ্যেই একটা দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব কাজ করবে। বলা যেতে পারে ওই ব্যবসা শুরু করতে আপনি লজ্জাই পাবেন। যদিও লজ্জা ঘৃণা ত্যাগ করে শুরু করলেন–আত্মীয়-স্বজন ,বন্ধু বান্ধব এমন বাঁকা বাঁকা সব মন্তব্য করবে যে, সে ব্যবসা চালু রাখাই মুশকিল হবে আপনার পক্ষে।

তবে, আমরা এটা সবসময় দেখে থাকি, যখন আমরা চাকরি বাকরি না পেয়ে, বাধ্য হয়ে, কোন ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করি-তখন দেখবেন, সবাই আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি, ঠাট্টা তামাশা করছে। বিরূপ মন্তব্য করছে। আপনার অনেক কাছের লোক আপনার বিজনেসে সাহায্য তো করবেই না বরং আমরা যাতে Demotivated হয়ে ওই বিজনেসটা করা ছেড়ে দিই ,সেই চেষ্টায় শতভাগ করবে।

বিজনেসে সফলতার আরও গোপন কথা জানতে এখানে ক্লিক করুন

আপনার Income না থাকলে তারা খুশি, আপনি বেকার থাকলেই তাদের আনন্দ। আপনার কষ্টে তারা সুখী। কিন্তু ভাবটা এমন দেখাবে যেন আপনার কষ্ট তাদের আর সহ্য হচ্ছে না। পারলে সে যেন আপনার জন্য এখনই কিছু একটা করে দেয়। বা যদি তার ক্ষমতা থাকতো সে আপনাকে কিছু করেই দিত।

সেই জন্য আপনি ছোটখাটো কিছু করছেন শুনলে তাদের মাথায় বজ্রাঘাত হয়।

সে জন্য নতূন কোন Business , বিশেষ করে ছোটখাটো কোন বিজনেস করতে হলে তো Strong Mind set থাকতেই হবে। না হলে নতুন বিজনেসের নোটে গাছটি ছাগলে খুব ভালো করে মুড়ে খেয়ে নেবে। আর এই ছাগলটি কারা এটা নিশ্চয়ই আর পরিষ্কার করে বলার দরকার নেই।

অতএব সাবধান।…..

যে ধরনের ব্যবসার কথা শুনলে আপনার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব প্রায় সকলেই হাসাহাসি করবে, এমনকি কখনো কখনো আপনিও খানিকটা দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ে যাবেন, ভাববেন-শেষ পর্যন্ত আমার কপালে এই ছিল !!!

দেখুনতো ব্যবসা গুলোকে চিনতে পারেন কিনা…

  • A .ভাঙরির ব্যবসা
  • B . সেলুন বা পার্লারের ব্যবসা
  • C . সাইকেল রিপিয়ারিং এর দোকান
  • D . সবজির ফেরিওয়ালা
  • E . মনিহারি দ্রব্য ফেরিওয়ালা
  • F . পুরনো জামা কাপড় কেনা
  • G . দোকানে দোকানে সরবরাহ
  • H . দশকর্মার জিনিসপত্র সরবরাহ
  • I. বিভিন্ন ধরনের বেকারী আইটেম দোকানে দোকানে দেওয়া
  • J. ঘুরে ঘুরে জামা কাপড় বেচা

এরকম আরো অনেক বিজনেসের উদাহরণ দেওয়া যায়।

এখানে একটি কথা মনে রাখা অবশ্যই উচিত, যে ব্যবসা দেখতে যত জাঁক-জমক পূর্ণ-সেই ব্যবসা শুরু করতে প্রচুর পুঁজি বা টাকা পয়সা প্রয়োজন হয়। এবং লাভের পরিমাণও থাকে তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

Business Growth
Business Growth

তুলনামূলকভাবে যে সমস্ত ব্যবসার আউটলুক তেমন একটা ভালো নয়। বুক বাজিয়ে যে ব্যবসা গুলোর কথা মানুষকে বলা যায় না–সেই ধরনের ব্যবসা গুলোতে কিন্তু যথেষ্ট বেশি পরিমাণে লাভ করা সম্ভব।

আপনারা ব্যবসা শুরু করবেন আপনাদের ক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী

ভালো গ্রোথের জন্য সেই ব্যবসাই নির্বাচন করতে হবে যাতে মানুষের Need থাকবে যথেষ্ট বেশি। এবং আপনি সেই Need ফুলফিল্ করতে পারবেন ১০০%। সেই ব্যবসায় সফলতার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেশি।

একদম শুরুতে বেশি লাভ করার কথা কখনোই ভাবা উচিত নয়। সামান্য লাভে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। মানুষের মধ্যে প্রচার করতে হবে।

কাস্টমার বাড়ানোর জন্য একদম প্রথমে, যেটা আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, সেটা হলো আপনার সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটা ভাবমূর্তি। একদম প্রথমেই কাস্টমারের কাছে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কখনোই হাজির হবেন না।

সর্ব প্রথমে আপনি আপনার উদ্দেশ্য যে সমস্ত কাস্টমার তার কাছে আপনার একটা সুন্দর পরিচয় তুলে ধরুন। যেমন আপনি কে, কি করেছেন, কি করতে চাইছেন এইরকম নানা রকম।

আপনি যখন আপনার উদ্দেশ্য নিয়ে কাস্টমারের কাছে হাজির হচ্ছেন তখন সবার প্রথমে একটা সুন্দর ভিজিটিং কার্ড সঙ্গে রাখুন। আপনার কাস্টমারকে সেই সুন্দর কার্ডটির দিন এবং আপনার উদ্দেশ্য তাকে বলুন। মনে রাখবেন–A beautiful visiting card is your first impression.

যখন কোন কাস্টমারের সঙ্গে আমাদের প্রথম পরিচয় হয়, তখন আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সময় আমার ব্যক্তিগত সমস্যা তার সঙ্গে আলোচনা করে ফেলি । কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, আমি আমার সমস্যা তাকে বলার জন্য, কার কাছে হাজির হয়নি । তার যে সমস্ত সমস্যা আছে সেগুলোর সমাধান সূত্র নিয়ে বলার জন্য। আমাকে বেশি করে তুলে ধরতে হবে, আমার মাধ্যমে অল্প সময়ে বা অল্প পয়সাতে বা তার কোন কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে । আমাকে তার প্রয়োজনীয় সমস্যা সমাধানের বিষয়গুলি ।তার সামনে তুলে ধরতে হবে।

বিজনেস শুরুর একেবারে প্রথম দিকে অফার বা ডিসকাউন্ট অবশ্যই রাখা উচিত। কারণ মানুষ অফার বা গিফট বা ডিসকাউন্ট খুবই পছন্দ করে।

কাস্টমারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।

একেবারে শুরুতে কোন নতুন কোম্পানির প্রোডাক্ট বা নতুন সার্ভিস নিয়ে কাস্টমারের কাছে না যাওয়াই ভালো। সেক্ষেত্রে কোন ব্রান্ডেড কোম্পানির প্রোডাক্ট বা ব্র্যান্ডেড কোম্পানির সার্ভিস এর অফার নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো অনেক সহজ। এতে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

কাস্টমারকে যে পরিষেবা দেবেন সেটা যেন সবসময় হাসিমুখে হয়। এই কাজটি করাতে বা করার জন্য আপনি খুবই বিরক্ত বা আপনার ভালো লাগছে না এই ভাবটি যেন কাস্টমারের সামনে কখনোই প্রকাশ হয়ে না পড়ে।

প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দিতে গিয়ে কখনোই বেশি তাড়াহুড়ো করবেন না। বা ব্যস্ততা দেখাবেন না। মনে রাখবেন, তিনি বা ওই কাস্টমার আপনার ব্যস্ততা দেখার জন্য বসে নেই। আমরা অনেক সময় কাস্টমারকে দেখাতে যাই, আমার অন্য কাজে খুব ব্যস্ততা আছে। এটা কিন্তু খুবই খুব ক্ষতিকারক একটা প্রবণতা।

আমাদের কে একটা কথা সবসময় মনে রাখা উচিত, কোন কাস্টমার কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস এর জন্য যে টাকা পে করছেন, আমরা যেন সেই টাকার থেকেও বেশি মূল্যের সার্ভিস তাকে প্রদান করতে পারি।

Customer Service
Customer Service

এগুলি যদি আমরা মেইনটেইন করতে পারি, তাহলে ব্যবসা যথেষ্ট ভালো হবে বলেই আমার বিশ্বাস।

যখন একটু একটু করে বিজনেস বড় হবে। সামান্য হলেও অল্প অল্প লাভ আপনি চোখে দেখতে পারবেন–তখন দেখবেন আস্তে আস্তে কনফিডেন্স লেভেলও High হচ্ছে। Actually তখনই শুরু হবে বিজনেসের আসল খেলা।

তখন আর কেউ বাঁকা হেসে বা বাঁকা কথা বলে আপনাকে থামাতে পারবে না ।তখন আপনি হয়ে উঠবেন অপ্রতিরোধ্য। প্রপার বিজনেস অ্যাটিটিউড গ্রো করতে শুরু করবে আপনার ভেতরে। আপনি হয়ে উঠবেন একজন বিজনেসম্যান

এইভাবেই একজন নতুন বিজনেসম্যানের জন্ম হয়। আপনিও হতে পারেন সেই লাকি Person.

এবার আপনি যখন সফলতা পেতে শুরু করেছেন, তখন দেখবেন-সেই সমস্ত আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব–যারা আপনার বিজনেস দেখে, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছিল, বাঁকা কথা বলেছিল। তারা আস্তে আস্তে আপনার ‘ কাছে আসতে চাইছে, এটাই আসল বাস্তব। আপনি যদি ব্যবসাতে টিকে থাকেন। আপনি যদি আস্তে আস্তে সফলতার মুখ দেখেন। এটা আপনার সাথেও ঘটবে। প্রস্তুত থাকবেন।

সফলতার আরো 17 টি মাস্টার পয়েন্ট সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করে পড়ে নিন।

একদম প্রথমে বিজনেসের Bass শক্ত করার জন্য প্রফিট কম করতে হবে। কারণ আমাদের প্রথম প্রয়োজন কাস্টমার। কাস্টমারের বিশ্বাস। কাস্টমার যাতে অনেক বেশি পরিমাণে আমার কাছে আসে বা আমি যাতে অনেক বেশি কাস্টমারের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারি সেই রকম কাজই করতে হবে।

অন্য বিজনেসম্যান যেগুলো করছে না। বা ভুল করছে—–সেগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে–নিজে সঠিকভাবে সেগুলোর implement করতে হবে।

বেশি লাভের চক্করে

বেশি লাভ করার চক্করে পড়ে আমরা অনেকেই ভুলে যাই বিজনেসটি কিন্তু একদিনের কাজ নয়।। এটা Long term process। অল্প লাভ করলে এবং প্রোপার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দিতে পারলে , আমাদের বিজনেস সারা জীবন থাকবে বা চলবে।। বেশি বাড়াবাড়ি করলে বা তাড়াহুড়ো করলে–ব্যবসা কিন্তু শুরুতেই একদম খতম হয়ে যেতে পারে। সেজন্য ভেবেচিন্তে পা ফেলতে হবে।

একজন কাস্টমারের সাথে আমাদের আচরণ হবে একজন বন্ধুর মত, আত্মীয়ের মত, পরামর্শদাতার মত, নির্ভেজাল ও মানবিক। আর ভালো বন্ধু বা মানবিক মানুষকে সবাই পছন্দ করে। আপনার মধ্যে যদি সেই গুণটি লালন করতে পারেন–আপনি হবেন King। আপনাকে আটকায় কার সাধ্য।

বিজনেস নিয়ে, আমরা যত পজেটিভ ভাবনা চিন্তা করব, কাস্টমারের বেশি লাভ দেখার কথা ভাববো,–কাস্টমার কিসে খুশি হবে-সে বিষয়ে ভাববো–সেটাই হবে বিজনেসের আসল মূলধন।

আমাদের চারপাশে আমরা যত ধরনের Business দেখি,–সেগুলি কখনো কখনো, কোনো না কোনোভাবে সফল বা বিফল। সেজন্য বিজনেস নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের নলেজ , ইকোনোমিকাল কন্ডিশন এবং পরিবেশ –এই তিনটি বিষয়কে মাথায় রেখেই বিজনেস শুরু করতে হবে। অর্থাৎ আমরা কখনোই কোন কমপ্লিকেটেড বিজনেস মেথডকে ফলো করবো না ।

বেশিরভাগ মানুষ একদম শুরুতেই বিষয়টি কমপ্লিকেটেড করে ফেলেন। ফলে এক সময়ে হতাশ হয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। সেজন্য একদম শুরুতে আমরা ফলো করব যে কোন সিম্পল বিজনেস স্ট্যাটাজি। যা আমাদের স্বস্তি দেবে। সঙ্গে মুনাফাও।

সেজন্য ব্যবসা শুরু করতে হবে ছোট করে। অনেকেই অত্যাধিক লাভের আশায়, বহু টাকা পয়সা ইনভেস্ট করে ব্যবসা শুরু করে দেয়। আগু পিছু না ভেবে। তাদের ধারণা বেশি টাকা ইনভেস্ট করলেই বেশি লাভ হবে। খুব তাড়াতাড়ি ব্যবসা গ্রোথ হবে। যখন তারা গাড্ডায় পড়ে, ভুল বুঝতে পারে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়, ক্ষতি হয়ে যায় বহু টাকা। তখন সেখান থেকে বেরিয়ে না আসলেও ক্ষতি আর ওই ব্যবসা চালু রাখলেও আরো ক্ষতি। অর্থাৎ শাঁখের করার বা উভয় সংকট।

এজন্য কম পুঁজি ইনভেস্ট করে ব্যবসা শুরু করতে হবে এবং অল্প অল্প করে বিজনেস বাড়াতে হবে । এই পদ্ধতিই সবদিক থেকেই Risk Free ও লাভজনক এবং Tension Free ও বটে।

পার্টনার থেকে সাবধান !!

ছোট্ট করে নতুন কোন Business শুরু করার ক্ষেত্রে কখনোই পার্টনার নেওয়া উচিত নয়। এবং অন্যের উপরে নির্ভর করে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ করতে হবে–এরকম কন্ডিশন নিয়ে নতুন ব্যবসা কখনোই শুরু করা উচিত নয়। Business একটু বড় হলে কর্মচারী বা Staff রাখা যেতেই পারে। পার্টনার নেওয়ার ব্যাপারে একবার দুবার নয়, হাজার বার ভাববেন, কারণ একবার ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে গেলে—শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি।

পার্টনারশিপ বিজনেস হলে, মতবিরোধ থেকে মনমালিন্য। ঠেলাঠেলি, ভুল বোঝাবুঝি, ইত্যাদি। নানা রকম সমস্যা এসে নতুন ব্যবসার দফা একদম রফা করে দেয় । শেষ হয়ে যায়। আপনার বা আমার স্বপ্নের ইমারত।

Competition বা প্রতিযোগিতা

আমরা যখনই কোন Business শুরু করব তার সঙ্গে সঙ্গেই এসে পড়বে আরেকটি জিনিস তার নাম হলো কম্পিটিশন বা প্রতিযোগিতা।–কারণ আমরা এমন কোন বিজনেস শুরু করতে পারবো না–যেটা একমাত্র আমি করছি। আর কেউ সেটা করবে না বা করতে পারবে না। ফলে কম্পিটিশনের মুখোমুখি হতেই হবে। এবং সেই কম্পিটিশনে জয়ী হতে হবে।

Competition
Competition থাকবেই

তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই–অনেক ভাবনা চিন্তা করে, রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্ট করে সম্পূর্ণ নতুন একটি Business শুরু করা গেল। ধরা গেল পৃথিবীতেই সেই ব্যবসা একেবারেই প্রথম। আপনি ওই বিজনেসের আবিষ্কর্তা। বেশ ভালই চলছে আপনার বিজনেস। মুনাফাও হচ্ছে প্রচুর। অল্প দিনেই আপনার ব্যবসা জমে গেল। আপনি হয়ে উঠলেন কোটিপতি।

কিন্তু বন্ধু, আপনার লাভ দেখে যে আর কেউ সেই ব্যবসা শুরু করবেন না , বা শুরু করতে পারবেনা, এরকম তো নয় ।এরকম কোন আইন আজও তৈরি হয় নি।অর্থাৎ competition বা প্রতিযোগিতা আসবেই। যেটাকে আমাদের ফেস অবশ্যই করতে হবে।

আমাদের যেটা করণীয়–সেটা হল, অন্য ব্যবসায়ীরা যেভাবে ব্যবসাটা করছে, আমি বা আমরা কিন্তু সেভাবে ব্যবসাটা একেবারেই করব না। আমরা করবো ডিফারেন্ট ওয়েতে। কাস্টমারের কাছে আমাদের সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা থাকবে অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে আলাদা বা বেটার। যেটার জন্য কাস্টমার কখনো আপনাকে ছেড়ে যাবে না। বা ছেড়ে যেতে হলেও দশবার ভাববে। এটাই হবে আপনার বিজনেস সিক্রেট। আপনার সফলতার সিঁড়ি। অন্যকেউ যার হদিসও পাবেনা। সেজন্য আপনার ব্যবসার সিক্রেট কখনোই কাউকেই share করবেন না , সে আপনার যতই কাছের মানুষ হোক না কেন। এটা আপনার একদম নিজস্ব।

আর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা ও অন্যকে হারানোর নতুন নতুন পদ্ধতি জানার জন্য

ভালো ভালো বই পড়তে হবে।

ভালো ভালো মোটিভেশনাল স্পিকারদের বক্তব্য শুনতে হবে।

সামান্য খরচ হলেও কিছু কিছু Business সেমিনার অ্যাটেন্ড করতে হবে।

যেগুলো অন্যদের থেকে আপনাকে অনেক এগিয়ে রাখবে।

আর এই অভ্যাস গুলো যদি একবার আপনার মধ্যে এসে যায়। আপনার মধ্যে যদি একবার বই পড়ার অভ্যাস ও মোটিভেশনাল talk শোনার হ্যাবিট তৈরি হয়ে যায় । বিজনেস সেমিনারে এটেন্ড করার হ্যাবিট গ্রো করে। তাহলে আপনি হয়ে উঠবেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।–কারণ-বেশিরভাগ মানুষ যখন বিজনেস শুরু করে, তখন সবার প্রথমে বই পড়ার Habit টাই নষ্ট হয়ে যায়। কাজের চাপে। ফলে সে আস্তে আস্তে একই ধরনের, পুরাতন চিন্তা ভাবনের ঘেরাটোপে আটকে পড়ে। থেমে যায় ব্যবসার উন্নতি।

মনে রাখবেন, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা বা অজ্ঞতাই হয় আমার বা আপনার যুদ্ধজয়ের অস্ত্র। সেজন্য কোন অবস্থাতেই বই পড়া থামালে চলবে না। যদি ক্রমবর্ধমান উন্নতি আমরা চাই–বই আমাদেরকে পড়তেই হবে শুনতেই হবে মোটিভেশনাল টক।

পৃথিবীর যত বড় বড় সাকসেসফুল বিজনেসম্যান আছেন, তাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হল বুক রিডিং । অনেকেই বলে থাকেন আমি সময় পেলে বই পড়ি। কিন্তু সাকসেসফুল বিজনেসম্যানেরা বলেন বই পড়ার জন্য সময় বের করে নিতে হবে। কারণ আপনার সফলতার সেতু আপনাকেই বানাতে হবে।।

 অর্থাৎ

 আপনি বই পড়ে যেটা শিখবেন এবং বিজনেসে এপ্লাই করবেন— সেটা আপনার প্রতিপক্ষ স্বপ্নেও ভাবতে পারবেন না । প্রয়োগ করা তো দূরে থাক। কারণ আপনি যত বই পড়বেন, ততই নতুন নতুন টেকনিক, অটোমেটিক আপনার মাথায় চলে আসবে।

বই পড়াকে নেশায় পরিণত করতে হবে

 সেজন্য বিজনেস বড় করবার জন্য চাই ডেডিকেশন ও ফোকাস।

অনেকেই বলে থাকেন আমার Business যে বড় হবে, আমার এক্সপার্টিজ বা বৈশিষ্ট্য কোথায় ?

মনে রাখবেন–

আনবিটেবল প্রডাক্ট

আনবিটেবল সার্ভিস কোয়ালিটি,

১০০% সেটিসফাইড সার্ভিস পলিসি,

রিফান্ড পলিসি

এবং আপনার হাসিমুখ

— এগুলো হলো এগুলোই হল আপনার বৈশিষ্ট্য। বিজনেসে এই বিষয়গুলির কোনটি যেন কখনোই অভাব বা ঘাটতি না থাকে।

 আমাদের যে Business প্রতিপক্ষ থাকবে ,তার থেকে অনেক বেশি অ্যাডভান্টেজ আমাদের মধ্যে থাকতে হবে। যেটা  আমাদের প্রতিপক্ষ ভাবতেও পারবেনা। যেটা তার কল্পনাতেও আসবেনা। 

Cost To Cost

বিজনেসে একটা কথা আছে- Cost To Cost অর্থ হল কেনা দামে বেচো।

 আমাদের নতুন Business শুরু করার পর কাস্টমার টানার এটা একটা বিশেষ কার্যকারী ট্রিকস বা টিপস। সব প্রোডাক্ট বা সার্ভিস এর ক্ষেত্রে কিন্তু এই কথাটা প্রযোজ্য নয়।

 যেমন’

 ধরা যাক আমি ১০ রকমের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করি।ওই ১০ রকমের প্রোডাক্ট এর মধ্যে একটি বা দুইটি প্রোডাক্ট মানুষের খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে থাকে। যে প্রোডাক্টটি কাস্টমারকে মাঝে মাঝেই কিনতে হয় বা প্রায়ই কিনতে হয়।

আমরা ওই ধরনের একটি বা দুইটি প্রোডাক্ট কেনা দামে, কাস্টমারকে দেব, যেটা সে হাজার মাথা ফুটলেও বাজার থেকে বা কোন দোকান থেকে কিনতে পারবে না। যেহেতু ওই প্রোডাক্টটি মাঝে মাঝেই– কেনে সেজন্য সে ওই প্রোডাক্টিভ ক্রয় মূল্য সম্পর্কে সচেতন। সে যখন আপনার থেকে কোয়ালিটি প্রোডাক্ট ,বাজারের থেকেও কম দামে পাবে, সে তখন বুঝতে পারে আপনার কাছ থেকে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিলে কোয়ালিটি প্রোডাক্ট তো পাবেই উল্টে দামটাও হবে কম।

মানুষ মানুষের জন্য
মানুষ মানুষের জন্য

 কি মনে হয়

 এরপরেও কাস্টমার আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে ?

বিজনেসের ক্ষেত্রে Cost To Cost কনসেপ্ট যেমন আছে, তেমনি আরেকটি কনসেপ্টও আছে সেটি হল ইগনোর করা।

Ignore OR Avoid

কিছু কিছু কাস্টমার আমরা পাব । যারা আপনাকে প্রতিপদে  সময় নষ্ট করাবে, প্রতি পদে হেনস্তা বা অপদস্ত করতে চাইবে। সেটা দরদাম করা হতে পারে, ধার নেওয়া বা পেমেন্ট দেওয়া হতে পারে– তারা সব সময় আপনাকে ঠকিয়ে দিতে চাইবে।

 এক্ষেত্রে তাকে Ignore OR Avoid করতে হবে। যাতে সে বুঝতে পারে, আপনি তাকে প্রোডাক্ট বেচতে চাইছেন না। বা তাকে কাস্টমার হিসাবে পেয়েও পছন্দ করছেন না। তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ চলবে। হাসিমুখে কথা হবে কিন্তু প্রোডাক্ট সেল বা সার্ভিস কখনোই নয়।

 সে এটা বুঝে নিজেকে সংশোধন করে নিলে পরবর্তী পর্যায়ে তার সঙ্গে কাজ করা যেতে পারে —অন্যথায় এরকম দু একজন কাস্টমারকে বাদ দিলে বিজনেসের তেমন একটা ক্ষতি হবে না। বরং মানসিকভাবে আপনি অনেকটাই চাঙ্গা থাকবেন। সেজন্য না বলা অবশ্যই শিখতে হবে। ইগনোর করা অবশ্যই শিখতে হবে।

সেজন্য না বলা শিখুন।

Ignore করা শিখুন।

Avoid করা শিখুন।

 মনে রাখবেন বিজনেস একটা আর্ট। শিল্পে মনটাও একটা বড় ফ্যাক্টর। যেখানে বা যে কাস্টমারের কাছে আপনার মন স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেবে না তাদেরকে আপনার লিস্ট থেকে আপাতত বাদ রাখুন।

বিজনেস বিষয়ে এইরকম আরো আর্টিকেল পাওয়ার জন্য আমার সঙ্গে থাকুন। আমার ফেসবুক পেজকে ফলো করুন। আমার ইউটিউব চ্যানেল Learn Digital Earn Money এবং সঞ্জয় বিশ্বাস কলকাতা চ্যানেল দুটিকে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

ব্যবসা শুরুর আগেই আমাদের আরো কোন কোন বিষয়ে জানতে হবে, সেটা এখানে ক্লিক করুন এবং পেয়ে যান সোনার খনি যা আপনার উন্নতি একটা চরম শিখরে পৌঁছে দেবে।

Follow this :I f you want to know more
Follow this :I f you want to know more

1 thought on “7 টি Business Success Tips. // বিজনেস শুরুর আগে জেনে নিন ।”

Leave a Comment