ভালো থাকা খুবই সহজ কিন্তু পারিনা কেন ?

ভালো থাকার সুলুকসন্ধান

আনন্দে থাকুন সবসময়
আনন্দে থাকুন সবসময়

আমরা জীবনে যত সামনের দিকে এগোবো, তাতে আমাদের বয়স যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে অভিজ্ঞতার ঝুলি। সেই অভিজ্ঞতা ঝুড়িতে সব সময় যে ভালো ভালো সবকিছু জমা হবে তা কিন্তু নয়। এমন অনেক কিছু জমা হবে যা আমাদেরকে ভালো থাকতে দেবেনা, নাড়িয়ে দিয়ে যাবে আমাদের সেই সময়কে।

আমরা আমাদের জীবনের এক একটি ধাপ পার করবো, আসবে নতুন একটা ধাপ। সেই ধাপের ধরন ধারণ হবে আলাদা রকম।

আমরা যে শুধু আমাদের নিজের জীবন থেকে নানা রকমের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি ,তা কিন্তু নয়। আমাদের কাছের মানুষ বন্ধু-বান্ধব এমনকি বহু দূরের কোন মানুষের অভিজ্ঞতাও আমাদের জীবনকে রঞ্জিত করে।

আমার এই ওয়েবসাইটে আমি যে সমস্ত লেখা প্রকাশ করি, সবই যে আমার নিজের লেখা তা কিন্তু নয়। আমার কাছের মানুষজন। আমার পড়া বিভিন্ন বই। কারোর মুখে শোনা কোন গল্প ,এমনকি কখনো কখনো ফেসবুকের কোন বন্ধুর লেখা থেকেও অনুপ্রাণিত হয়ে, আমার লেখা সমৃদ্ধ হয়।

তার কারণ , আমি যে লেখাগুলো পড়ি ,যে গুলো পড়ে আমার ভালো লাগে ।আমার বন্ধু বান্ধবের ও যে সে সবই আমার পাঠকদের চোখে পড়বে, সেটা নাও হতে পারে। আমি চাই ,যে লেখাগুলো আমার মনকে নাড়িয়ে দিয়ে যায়, সেই লেখা আমার পাঠকরাও আস্বাদন করুক।

আমি চেষ্টা করি আমার যে লেখাগুলো কোন বন্ধুর লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা বা কোথা থেকে সংগৃহীত সেই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে। করি ও । যদি কখনো কৃতজ্ঞতা স্বীকারের উল্লেখ না থাকে, সেটা একেবারেই অনিচ্ছাকৃত।

চলুন, আজ আমরা, সেই বিষয়ে আলোকপাত করি,, যেটা আমরা সকলেই চাই। কিন্তু পায় না।

আমাদের মনে রাখতে হবে

অন্যকে ভাল রাখাটা যেমন একটা আর্ট, তেমনি নিজে ভালো থাকাটা একটা আর্ট।

ভালো থাকতে চাইলে , আমাদের চারপাশে যে সমস্ত ব্যাপার-স্যাপার প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে ,সেসব বিষয় সব সময় মাথায় ঘামানো উচিত নয় । অনেক কিছুই ইগনোর করতে হয়। অনেক কিছুই দেখেও না দেখার ভান করতে হয় । এতে লাভই বেশি ।

কিন্তু তার বদলে যদি আমরা আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া সমস্ত বিষয়ে তত্ত্বতালাশে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, যদি আমার সব সময় মনে হয় ,আমার প্রিয় বন্ধু কেন ওই কথাটা চেপে গেল ? আমার বন্ধু হঠাৎ কেন এমন আচরণ করল ? আমার প্রেমিক কেন হঠাৎ বদলে গেল ? আমার থেকে আমার পিসতুতো দিদির দামী ফোন কেন‌ ? আমার পাশের বাড়ির লোকটা কিভাবে A.C কিনলো ? ওরা বাড়িতে মার্বেল বসানোর টাকা কোথায় পেল ? কে আমাকে রোগা বলল, কে আমাকে মোটা বলল…কে আমার প্রশংসা করল… কে আমাকে নিন্দা করল , কে আমাকে দেখে মুচকি হাসল, এসব নিয়ে যত কম মাথা ঘামাবো, আমরা ততই ভালো থাকবো।

এসব ছেড়ে যদি আমরা নিজেকে নিয়ে একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তাহলে দেখা যাবে অন্যকে নিয়ে ভাবনার বিষয়টাও অনেক কম হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য অবশ্য নিজের অভ্যাসের কিছু বদল ঘটাতে হবে। যদি আমরা আমাদের অভ্যাসটাকে বদলাতে কিছুটা রাজি থাকি তাহলে ভালো থাকার প্রথম part-এ আমরা পাশ করে গেছি।

নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমরা গাছ লাগানো কে বেছে নিতে পারি। আমরা গ্রাম বা শহরে যেখানেই বাস করি না কেন ,কম বেশি জায়গা আমাদের সকলেরই আছে। মাটিতে যদি একান্ত জায়গা না থাকে তাহলে, আমরা যদি মাটির টবে আমাদের প্রিয় কিছু গাছপালা লাগায় এবং নিয়মিত তাদের পরিচর্যা করি, তাহলে দেখা যাবে, অন্যকে নিয়ে ভাবনার সময় বা অন্য কি করলো সেই বিষয়ে মাথা ঘামানোর সময় অনেকটাই কমে যাবে।

বরং গাছপালার পরিচর্যা করতে গিয়ে কিছুটা ঘাম ঝরলে মনের সাথে সাথে শরীরেরও অনেকটাই উপকার হবে। অতিরিক্ত প্রাপ্তি হলো যখন আমাদের পছন্দের গাছে ছোট ছোট কুঁড়ি আসবে বা ফুলে ভরে যাবে সেই দৃশ্য। গাছপালার নেশা একবার লেগে গেলে দেখবেন, কোথায় ভালো গাছ পাওয়া যায় ?, কোথায় কম দামে ভালো টব পাওয়া যায় ভালো,কোথায় গাছের খাবার পাওয়া যায় ? কোন গাছের কিভাবে পরিচর্যা করতে হবে ? এইসব জানার নেশাতেই আমরা অনেকটা সময় অতিবাহিত করে ফেলব।

যাদের গাছপালা করতে সেরকম ভালো লাগেনা ,তারা একটু পড়াশোনার মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। নতুন নতুন লেখকের বই। অনুপ্রেরণামূলক বিভিন্ন বই। মনীষীদের লেখা বিভিন্ন মূল্যবান বই। এগুলো পড়া শুরু করলে, আমাদের মূল্যবান সময় যেমন মূল্যবান কাজে অতিবাহিত হবে তেমনি আমাদের জ্ঞানের ভান্ডার টাও সমৃদ্ধ হবে।

প্রথম প্রথম বই পড়া শুরু করলে বেশিক্ষণ পড়া সম্ভব হবে না। সেজন্য প্রতিদিন শোবার আগে বা বিছানায় শুয়ে ঘুমোনোর ঠিক আগের মুহূর্তে যদি আমার কোন প্রিয় বই হাতে নিয়ে পাঁচ মিনিট করে পড়ার অভ্যাস করি, দেখা যাবে এই পাঁচ মিনিটে এক সময় আপনাকে নেশাতে নেশা ধরিয়ে দিয়েছে।

বই না পড়লে যেন আপনার ঘুমই আসছে না। বই না পড়লে মনে হবে যেন কিছু একটা করা হয়নি। একটু একটু চেষ্টা করে দেখুন, দেখবেন অন্যকে নিয়ে ভাবনার সময়টা একটু একটু করে কমে আসছে।

বইকে বন্ধু করুন
বইকে বন্ধু করুন

আমরা যত অন্য কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলবো, তত অন্যকে নিয়ে ভাবনার সময়টাও কম হয়ে যাবে। এতে আমাদের মনের ভিতর যে পরশ্রীকাতরতার আবর্জনা জমা হতো, সেই সুযোগ আর তখন থাকবে না। আপনার মনটা হয়ে উঠবে একাকী শান্ত ও চিন্তাশীল। অন্যকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা কমাতে হলে আমাদের পড়াশোনার গতিটা আস্তে আস্তে আর একটু একটু করে বাড়িয়ে দিতে হবে।

এমন হতে পারে,আমাদের পড়াশোনার জীবনে যে বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশুনা করার ইচ্ছা ছিল অথচ হয়ে ওঠেনি, সেই বিষয়গুলো আবার নতুন করে শুরু করা যেতে পারে। যেমন–হয়তো ইচ্ছা ছিল ভালো ইংরেজি শেখার, বা ভালোভাবে ইংরেজিতে কথা বলা। ফ্রেন্চ ভাষা শেখার , জাপানি ভাষা বা জার্মানি ভাষা শেখার বা অন্য কোন ভাষা শিখে সেই দেশ ও জাতির সংস্কৃতি নিজে পড়ে জানার ইচ্ছা।

সেগুলোও তো পূরণ করে নেওয়া যেতেই পারে। এতে নতুন কিছু যেমন শেখা হবে। তেমনি পরনিন্দা পরচর্চা করে আর সময় কাটাতে হবে না । এমনকি ইচ্ছা থাকলেও দেখবেন ওগুলো করার আর সময় পাচ্ছেন না।

ছোটবেলায় আমাদের অনেকেরই গান বাজনা শেখার শখ থাকে। কিন্তু পরিবেশ এবং পারিবারিক অবস্থার চাপে সে শখ হয়তোবা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এখন তো বেশ খানিকটা সময় আছে চলুন না। নতুন করে গান বা বাজনা শেখার ক্লাসে ভর্তি হয়ে পড়ি।

দেখবেন এতে মজা অনেকটাই আলাদা। দেখবেন একদল কচিকাঁচার মাঝে আপনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বেশ জমিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। নতুন নতুন গান বা বাজনা শিখতে বেশ মজাও লাগছে। এর জন্য অবশ্য মাঝে মাঝে রসিকতার স্বীকারও হতে হবে আপনাকে।

তবে সেটাও হবে খুবই মজার। মজার মজার বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, জীবনটা মজারই হয়ে ওঠে। যেহেতু আমরা জীবনটা মজার করে তুলতে চাই না, সেজন্যে আমরা খারাপ জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি।

এই ধরনের নতুন নতুন বিষয়ের শিক্ষা আমাদেরকে খারাপ জিনিস থেকে দূরে রাখতে ভীষণভাবে সাহায্য করে। বিশ্বাস না হলে একবার শুরু করেই দেখুন।

আচ্ছা , রবীন্দ্রনাথের গান নিশ্চয়ই মাঝেমাঝে গুনগুন করেন ? কি করেন তো ?

আচ্ছা এবার বলুন তো রবীন্দ্রনাথের যে গানটি আপনি গুনগুন করে মাঝেমধ্যেই গান, সেই গানটি কি পুরো গাইতে পারেন ?

উত্তর হবে, নিশ্চয়ই না !!!

তাহলে একটা কাজ করুন না, প্রথমে রবীন্দ্রনাথের ওই গানটি যেকোনো জায়গা থেকে সংগ্রহ করে প্রথমে একটা খাতায় লিখে ফেলুন, তারপর মোবাইলে you tube সার্চ করে সেই গানটা বেশ কয়েকবার শুনে মুখস্ত করে গেয়ে ফেলুন তো ! একেবারে না দেখে !

এরপর খুঁজে বের করুন ওই গানটির ট্রাক মিউজিক, এবার তার সাথে গানটি গাওয়ার চেষ্টা করুন । এই খেলাটি একবার শুরু করে দেখুন না। দেখবেন মনের মধ্যে একটা আলাদা অনুভূতি হচ্ছে। আমরা এটা করব স্টেজ-এ উঠে গান গাওয়ার জন্য বা বড় শিল্পী হওয়ার জন্য নয় ।

আমরা এই গানটি করব, আমরা এই কাজটি করব কোন একটি ভালো কাজে নিজেকে যুক্ত রাখার জন্য। এই প্রচেষ্টাটি হবে গঠনমূলক এবং উপকারী। এতে যে সকলে আপনাকে প্রশংসা করবে বা ভালো বলবে তা কিন্তু নয়। অনেকেই কিন্তু আপনার পিছনে ঠাট্টা তামাশা করতেও ছাড়বে না। সেসবকে পাত্তা না দিলেই হল !

রং তুলি নিয়ে ছবি আঁকতেও চেষ্টা করতে পারেন। মানে , ছবি আঁকার চেষ্টা করতে পারেন। সেটা যেমনই হোক না কেন। আপনি যখন রং তুলি হাতে কাগজের উপরে কিছু একটা করবেন তাতে কিছু একটা তো হবেই।

আমরা তো অনেক সময় ঘরে বা বাড়িতে একা একা থাকি। একা একা টিভি দেখি গান শুনি । আচ্ছা কখনো এরকম মনে হয়নি আজ তো বাড়িতে কেউ নেই, ঘর বন্ধ করে ,একটা গান চালিয়ে , যেমন পারি একটু নেচে দেখি।

বিষয়টি ভেবেই বেশ হাসি হাসি পাচ্ছে তাই না ? আরে মশাই ঘরে তো কেউ নেই, একটু নেচেই দেখুন না কেমন লাগে ? নাচানাচি করার পরে দেখবেন বেশ একটা অনুভূতিতে মনটা ভরে গেছে।

আমরা অনেক সময়ই , সময় কাটানোর জন্য ক্লাব, বন্ধুদের দোকান, চায়ের দোকান বা ডাক্তারখানায় গিয়ে বেশ কিছুটা সময় আড্ডা দিয়ে থাকি। আড্ডার বিষয় পরনিন্দা পরচর্চা, রাজনীতি, কার মেয়ে পালিয়ে গেল, কার ছেলের চাকরি চলে গেল, কার মেয়ের বিয়ে হলো না, কোন ছেলেটার বউ চলে গেছে—ইত্যাদি ইত্যাদি,, এইসব আলোচনা কি আমাদের মনকে সমৃদ্ধ করে ? আমার তো মনে কখনোই নয়।

ভালো থাকুন সবসময় : প্রকৃতির সাথে
ভালো থাকুন সবসময় : প্রকৃতির সাথে

যদি বিকালে কিছুটা সময় পান, হেঁটে সাইকেল চালিয়ে, চলে যান বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে ফাঁকা মাঠের মধ্যে, বা নদীর ধারে। সেখানে গিয়ে বসুন, দেখবেন কত রকমের পাখি , কত রকমের শব্দ, জলের আওয়াজ ,  জলের মধ্যে দিয়ে কচুরিপানার ভেসে যাওয়া। গান গাইতে গাইতে মাঝির নৌকা বাওয়ার দৃশ্য চোখে না পড়লেও হয়তো দেখবেন কোন একজন গরীব মাঝি নদীর মাঝে মাছ ধরে বেড়াচ্ছে তার পরিবারকে একটু ভালো রাখার জন্য।

 অচেনা কোন পাখিও দেখতে পাবেন নদী বা মাঠে ঘাটে ,যে পাখির নাম হয়তো আপনি এখনো জানেন না ।বা কখনোই আপনি দেখেন  নি।  সেই সব অজানা পাখিদের কিচিরমিচির, ঝিঁঝিঁ  পোকার ডাক,  আরো কত রকম অভিজ্ঞতা যে আপনার সামনে এসে হাজির হবে সেটা আমি বা আপনি কেউই জানিনা ।

মন যদি তৈরি থাকে ,এ সবই আপনি পেতে পারেন একদম আপনার হাতের কাছে একদম বিনা খরচায়। শুধু মন প্রাণ দিয়ে একটু সময় বের করে নিতে হবে।এই আর কি !!!

 দেখুন বন্ধু ,আমরা হাবিজাবি চিন্তা করে, পরনিন্দা পরচর্চা করে, আমাদের অমূল্য মন ও সময় দুটোই নষ্ট করে ফেলি ।তার বদলে যদি আমরা নিজেকে নিয়ে একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ি, নিজেকে যদি একটু অন্যরকম কাজে ব্যস্ত করে ফেলি,, নিজেকে যদি নিঃশব্দে নিজের মনের মধ্যে একটু চলাফেরার সুযোগ করে দিই, সবকিছু যদি অন্যের সঙ্গে শেয়ার না করে, নিজের সঙ্গে বা প্রকৃতির সঙ্গে  নিঃশব্দে  দেওয়া নেওয়া করি, সেটা হবে আমাদের জীবনের একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট ।

তখন আর আমাদেরকে ভাবতে হবে না কি করে একটু ভালো থাকা যায় ? 

দেখা যাবে ,ভালো থাকাটা আমাদের ভীষণভাবেই রপ্ত হয়ে গেছে।

 বাজে সময় নষ্ট করতে। বা হাবিজাবি আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে একদম ইচ্ছে করছে না ।

 এরকম যদি কোন সময় শুরু হয়, আপনি বুঝবেন আপনি নিজেকে অনেক আলাদা করে ফেলেছেন।

 এরকম আলাদা হতেই তো আমরা চেয়েছিলাম ?  কি তাই তো ? 

আজ এখানেই শেষ করছি।

 আবার দেখা হবে পরের কোন  আর্টিকেলে 

 ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা সকলে সুস্থ থাকবেন ভালো থাকবেন।


Leave a Comment