বিশ্বাস ও ঈশ্বর // বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। তর্কে বহুদূর।।

তর্ক-বিতর্কে আমরা : বিশ্বাস ও ঈশ্বর

ঈশ্বর ও বিশ্বাস
বিশ্বাস ও ঈশ্বর

বিশ্বাস ও ঈশ্বর একটা আশ্চর্য জিনিস। যেটা আছে, কিন্তু থেকেও যেন নেই। কিভাবে আছে ? কোথায় আছে ? কিভাবে সেটা অনুভব করা যায় ? সে বিষয়েও নানা মুনির নানা মত।

আর বিপত্তিও এখান থেকে শুরু। বহু জ্ঞানী-গুণী , পন্ডিত- মহাজন সকলেই কখনো কখনো, কোনো না কোনো সময় জ্ঞানে বা অজ্ঞানে এই বিশ্বাস এবং ঈশ্বর নিয়ে নানা তর্কে অবতীর্ণ হয়েছেন। তবে ঈশ্বর এবং বিশ্বাস এই দুটির সমাধান সূত্র সেভাবে কিন্তু এখনো আবিষ্কার হয়নি। এর কারণ হলো মানুষের মনের গঠন। যুক্তি এবং বুদ্ধি দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার শক্তি।

ঈশ্বর ও বিশ্বাস সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন বিষয়টি। বিষয়টি কেমন লাগলো সেটাও জানাতে পারেন কমেন্টের মাধ্যমে।

যেহেতু মানুষের বসবাস করার দেশ, কাল, আবহাওয়া ,পরিবেশ ও জীবন চর্যা—সবকিছুর উপরেই নির্ভর করে ,কাজ ও চিন্তা ভাবনার প্রগতিশীলতা। আমার বিশ্বাস, এই বিতর্ক চলতেই থাকবে।

সেজন্য নতুন করে ঈশ্বর বা বিশ্বাস সম্পর্কে কোন তর্কে অবতীর্ণ না হয়ে, একটা ছোট্ট গল্পের অবতারণা করা যাক। এর থেকে আপনারা আপনাদের মনের ধারণা ও বিশ্বাস অনুযায়ী নিজেদেরকে বুঝতে পারবেন।

চলুন গল্পটা শোনা যাক,

কর্ণাটকের বেলুড় নামক স্থানে একটা মন্দির আছে । মন্দির টি স্থাপত্যশৈলির জন্য বিশ্ববিখ্যাত । মন্দির টি যখন তৈরি হলো,স্থানীয় রাজা বিষ্ণুবর্ধনের আনন্দ আর ধরে না । স্থাপত্যশিল্পের এই অনুপম নিদর্শন দেখে তিনি মুগ্ধ । কিন্তু একটা ব্যাপারে তাঁর খটকা লাগলো । তিনি সবিস্ময়ে আবিষ্কার করলেন মন্দিরের আনাচে কানাচে, যেখানে কারো দৃষ্টি যাবে না,সেখানে ও ভাস্কর জকনাচারী তাঁর শিল্পপ্রতিভা উজাড় করে দিয়েছেন ।

রাজা ভীষণ আশ্চর্য হলেন।তাঁর মনে নানা ধরণের প্রশ্ন ও কৌতুহলের উদ্রেক হলো। তিনি কোনো ভাবেই নিজের মনে সেই সমস্ত প্রশ্নের কোনো সমাধান সূত্র বের করতে পারলেন না । একান্ত নিরুপায় হয়ে ,নিজের কৌতুহল দমন করতে না পেরে তিনি জকনাচারীর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলেন : “শিল্পী, মন্দিরের সর্বত্র আপনি আপনার শিল্পপ্রতিভা যেভাবে তুলে ধরেছেন তা সত্যিই অসাধারণ ।কিন্তু মন্দিরের যে সমস্ত দিকে কেউ যাবে না,কেউ ফিরে ও তাকাবে না, সেই সমস্ত নিভৃত কোণগুলিকেও এমন সুক্ষ্ম অলঙ্করণে সমৃদ্ধ করার কি কারণ ছিল তা আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছি না । এর নিগূঢ় কারণটা কি আপনি আমাকে বর্ণনা করবেন?”

ভগবানের দৃষ্টি সর্বত্র, তিনি সর্বত্র বিরাজমান
ভগবানের দৃষ্টি সর্বত্র, তিনি সর্বত্র বিরাজমান

জকনাচারী করজোড়ে সবিনয়ে রাজা বিষ্ণু বর্ধন কে বললেন : “হে রাজন, শুধুমাত্র মানুষের চোখকে তৃপ্ত করার জন্য ই তাঁর এই অক্লান্ত স্থাপত্যশৈলি নয়,ভগবান যাতে তাঁর এই শিল্প কর্ম দেখে খুশি হন,সে জন্যই আমি নিজেকে উজাড় করে, মন্দিরের সর্বত্র ই সুন্দর করে তৈরি করেছি ।ভগবানের দৃষ্টি সর্বত্র, তিনি সর্বত্র বিরাজমান, তাঁর দৃষ্টির অগোচর কিছুই নয়।”

ঈশ্বর ও বিশ্বাস সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন বিষয়টি।

রাজা বাকরুদ্ধ হয়ে,মুগ্ধ হয়ে সবিস্ময়ে জকনাচারীর দিকে চেয়ে রইলেন।

Leave a Comment