24 মিনিট বই পড়লেই কেল্লা ফতে !!! এগিয়ে থাকার 10টি নিশ্চিত পদক্ষেপ।

বই পড়ুন এগিয়ে থাকার জন্য

বই পড়ুন বই পড়ান
বই পড়ুন // বই পড়ান

যত দিন যাচ্ছে, মানুষের জীবন কেমন যেন যন্ত্র নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছুই। মানুষ ছুটছে। মানুষ দৌড়াচ্ছে সময় এবং উন্নত জীবন লাভের আশায়। উন্নত জীবন লাভের আশায় মানুষ নিজেকে আস্তে আস্তে যেন হারিয়ে ফেলছে নিজেদের। মানুষ যত যন্ত্রনির্ভর হচ্ছে, ততই জীবনটা হয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিক। মানুষ এখন এককে আপন করে নিয়েছে। সেজন্য আবেগ যেন তাদের জীবন থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে।

আমরা চাইলে এখনো আমাদের জীবনে আবেগ কে ফিরিয়ে আনতে পারি। বা আবেগকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে এটা সম্ভব ?

পন্ডিত বা বিশেষজ্ঞদের মতে, একমাত্র ভালো বইই পারে কর্মমুখর আমাদের জীবনে আবেগকে ফিরিয়ে দিতে। সেজন্য তাদের পরামর্শ,

প্রতিদিন অন্তত ২৪ মিনিট বই পড়ার চেষ্টা করুন ।

এখন অনেকেই বলবেন, আমি তো সময় পেলেই, বা অবসর পেলেই বই পড়ি,

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,

অবসর সময়ে বই পড়ার চিন্তা না করে, বই পড়ার জন্য প্রতিদিন ২৪ মিনিট অবসর সময় অবশ্যই বের করুন। দিন-রাত্রি মিলে 24 ঘন্টা। এই ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমরা যদি ২৪ মিনিট বই পড়ার জন্য বের করে নিতে পারি, তাহলে আমাদের জীবনের ধ্যান- ধারণা গতি -প্রকৃতি সমস্ত কিছুই পাল্টে যেতে পারে।

বই পড়ার ক্ষেত্রে কখনোই আমরা হাতের কাছে যে বই পেলাম, সেগুলোই পড়ে ফেললাম। হাবিজাবি অনেক কিছু পড়লাম, এরকম করলে কিন্তু হবে না। বিনোদন বা নির্মল আনন্দ লাভের জন্য যেমন আমরা বিভিন্ন ধরনের গল্প ,উপন্যাস , কবিতা, প্রবন্ধ, রম্য রচনা, ভ্রমণ কাহিনী পড়বো ।

পাশাপাশি আমাদের জীবন গঠনের জন্য, বা উন্নত জীবন লাভের জন্য বা আমরা যে পেশার সঙ্গে যুক্ত আছি সেই পেশাকে আরো উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে হবে। অর্থাৎ আমাদের সেই বইগুলোই খুব বেশি পরিমাণে পড়তে হবে—যে বইগুলো আমাদেরকে অনেক কিছু জানতে, বুঝতে ও শিখতে সাহায্য করবে।

সেই বইগুলোই আমাদেরকে শিখিয়ে দেবে আমাদের কি করা উচিত ? কিভাবে সেটা করা উচিত ? কিংবা কোনটা করা উচিত নয় ! কেনই বা সেটা উচিত নয় ! ইত্যাদি ইত্যাদি। এক কথায় বই পড়ার অভ্যাস আমাদেরকে অনেক কিছু দেবার ক্ষমতা রাখে।

আমরা যদি প্রতিদিন সময় করে ২৪ মিনিট করে বই পড়তে পারি, বছর শেষে দেখা যাবে আমাদের পড়া বইয়ের তালিকা অনেক বড় হয়ে গেছে।, সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেক নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছি। অনেক গুঢ় তত্ত্ব বা রীতিনীতির সুলুক সন্ধান পেয়েছি।

চলুন আরেকটু বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক,

আমরা কেন বই পড়বো ?

বই পড়লে কি হয় ?

আর না পড়লেই বা কি হয় ?

ধৈর্য ধরে আর্টিকেলটি পড়লে বই সম্পর্কে আমাদের ধারণা পাল্টে যেতে বাধ্য বলেই আমার বিশ্বাস ।

কিভাবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায় সে সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করতে পারেন।

১। মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে।

মানবদেহের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটা শরীর। অপরটি হল মন। একটা দৃশ্যমান। অপরটি অদৃশ্য।

দৃশ্যমান অংশ অর্থাৎ শরীরকে সুস্থ রাখতে যেমন ব্যায়াম এর বিকল্প নেই ,প্রয়োজন হয় পুষ্টিকর খাদ্য-দ্রব্যের । তেমনি একইভাবে, আমাদের মস্তিষ্ক সচল রাখতে মানসিক ব্যায়াম জরুরি। মানসিক ব্যায়াম না করার ফলে আমাদের চিন্তাশক্তি লোপ পায়। মানসিক ক্ষমতা কমতে থাকে। চিন্তা ভাবনায় দুর্বলতা বা জড়তা প্রকাশ পেতে থাকে।

যেহেতু আমরা মনের খাবার যথাযথভাবে প্রয়োগ করি না সেজন্য ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের গঠনমূলক এবং উদ্ভাবন ক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। মনকে ঠিকঠাক ব্যবহার না করার ফলে, সঠিক পুষ্টি প্রদান না করার ফলে, মনের যে তেজস্বী ক্ষমতা সেটা হারিয়ে যেতে থাকে। বই পড়া একটা ভীষণ ক্ষমতা সম্পন্ন মানসিক ব্যায়াম । সেজন্য আমাদের মস্তিষ্ক সচল রাখার জন্য নিয়মিত বই পড়া ভীষণই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

২। মানসিক চাপ কমানোর অব্যর্থ দাওয়ায়।

আমরা যত চেষ্টাই করি না কেন, আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, একাডেমিক কিংবা চাকরিজীবনে নানারকম মানসিক চাপের মধ্যে পড়তেই হয় । এই সমস্ত চাপ থেকে বেরিয়ে আসা সত্যি খুব কঠিন কাজ । কখনো কখনো আমরা এই মানসিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য , মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হই । এতে বহু সময় এবং টাকা-পয়সাও নষ্ট হয়। সেখানে যে সমাধান সূত্র একেবারে কিছুই মেলে না ,সে কথা বললে অত্যুক্তি হবে।

তবে যেটা মেলে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। এই সকল মানসিক চাপকে আমরা পাশে সরিয়ে রাখতে পারি, যখন আমরা একটি ভালো বইয়ের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে ফেলে, সঠিক সমাধানের রাস্তা খুঁজে পাই।

একটি ভালো বই, একটা গঠনমূলক বই, একটা পজিটিভ মেন্টালিটির বই আপনার বা আমাদের দুশ্চিন্তা ও অবসাদ্গুলোকে পাশে সরিয়ে আপনাকে বা আমাদের একটি অন্য দুনিয়ায় নিয়ে যেতে পারবে, যার মাধ্যমে আমাদের মানসিক চাপ ও নানা রকম দুশ্চিন্তা থেকে আমাদেরকে মুক্ত রাখতে পারবে।

৩। উন্নত জ্ঞান-বুদ্ধি

ছোটবেলায় একটা কথা বড়দের মুখে খুবই শোনা যেত। সেটা হল—

বই পড়লে জ্ঞান বাড়বে । একথা বলাই বাহুল্য। বর্তমান অতি দ্রুততার যুগেও এই কথা সমান ভাবে প্রযোজ্য। ভালো বই থেকে আমরা যেসব নতুন নতুন তথ্য গ্রহণ করব, সেগুলো অব্যশই কোন না কোনো দিন আমাদের দরকারে আসবে। আমাদের জ্ঞানের ভান্ডার যত সমৃদ্ধ হবে, আমাদের জীবনের বাধা বিপত্তি গুলো অতিক্রম করে আমরা ততটাই শক্তিশালী হব।

একটি কথা আমরা সবাই জানি –

আমরা ভীষণ কষ্ট করে যে সমস্ত বিষয় আশ্রয় ধন-সম্পত্তি সংগ্রহ করি, দান করলে বা খরচ করলে কমে যায়। বা আমাদের চাকরি,ব্যবসায়, সম্পত্তি, অর্থবিত্ত, এমনকি স্বাস্থ্য – সবই হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আমাদের অর্জিত জ্ঞান সবসময়ই আমাদের সাথে থাকবে।

শুধু তাই নয়, আমরা আমাদের জ্ঞান বা বুদ্ধিকে যত বেশি মানুষের সঙ্গে শেয়ার করব, আমাদের জীবনে প্রয়োগ করবো, সেই জ্ঞান বা বুদ্ধির শক্তি ও ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য আমরা বা আমাদের যতক্ষণ পড়ার ক্ষমতা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন আমরা এই ধরনের অভ্যাস থেকে বিরত না হয়। এবং আমাদের আশপাশের মানুষকেও বই পড়ার বিষয়ে আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে হবে।

Communication : A Great Skill
Communication : A Great Skill

৪। কমিউনিকেশন Skill বৃদ্ধি

আমরা যত পড়বো, তত নতুন নতুন ও সুন্দর সুন্দর বাক্য ও শব্দ-বন্ধ, শিখবো। আর এতেই আমাদের বাক্য ও শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হবে। পারস্পরিক কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ আমাদের শিক্ষাজীবন, ব্যক্তিজীবন বা কর্মজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবনে তো সুন্দর ভাষা বা ভালো যোগাযোগ দক্ষতার জন্য অনেকে বেশ সমাদৃত হন।

আমরা কর্মক্ষেত্রে বহু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই, যাদের কথাবার্তা ধরন চালচলন, আর পাঁচজন থেকে উন্নত এবং আলাদা ধরনের। একটু খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এই ধরনের মানুষের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা যথেষ্ট পরিমাণে বেশি। সেজন্যে

আমরা যদিএই দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চাই তাহলে আমাদেরকে সব থেকে বেশি সাহায্য করবে, ‘বই । নতুন নতুন বুদ্ধি, নতুন নতুন শব্দ, নতুন বাক্য বন্ধ, এবং সুন্দর ব্যবহার ও তার প্রয়োগ আমাদেরকে অনেকের থেকে আলাদা করে তুলতে পারে। অর্থাৎ বই এর মধ্যেই রয়েছে এক অপরিসীম শক্তি। সারা দিনে মাত্র ২৪ মিনিট সময় ব্যয় করলে আমরা সেই অপরিসীম শক্তিকে নিজেদের শক্তিতে রূপান্তরিত করে নিতে পারি।

৫। স্মৃতিশক্তির উন্নতি

তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি আমরা কে না চাই! প্রায়ই আমরা বলে থাকি, স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে, অনেক কিছু মনে থাকে না। আবার ভালো স্মৃতিশক্তির মানুষকে আমরা শ্রদ্ধার চোখে দেখি।

আমরা যখন একটি বই পড়ি, আমাদেরকে বইয়ের চরিত্র ও তাদের ভূমিকা, তাদের পটভূমি, তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, তাদের ইতিহাস, সূক্ষ্মতা স্মরণে রাখতে হয়।

আর মজার ব্যাপার হলো, আমরা যখনই আমাদের মস্তিষ্কে নতুন একটি স্মৃতি Input করি তা একটি নতুন পথ তৈরি করে আমাদের ব্রেইনে এবং আগের স্মৃতিগুলোকেও শক্তিশালী করে তোলে।তখন

আর মজার ব্যাপার হলো, আমরা যখনই আমাদের মস্তিষ্কে নতুন একটি স্মৃতি Input করি তা একটি নতুন পথ তৈরি করে আমাদের ব্রেইনে এবং আগের স্মৃতিগুলোকেও শক্তিশালী করে তোলে। তখন আমরা অন্যদের থেকে আলাদা প্রতিপন্ন হই ।

৬। চিন্তাশক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি

দিন দিন একটি শব্দ অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, Critical Thinking বা জটিল চিন্তাশক্তি। কর্ম বা ব্যক্তিজীবনে এই দক্ষতার কদর বেড়েই চলেছে। আমরা বই পড়ার সময় প্রায়ই জটিল কিছু ঘটনার কথা পড়ি, যেগুলো নিয়ে আমরা সচেতন বা অবচেতনভাবে চিন্তা করি। আমাদের জীবনের সাথে  বা আমাদের খুব কাছের মানুষজনেরসঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে মেলাতে চেষ্টা করি। ঘটনাগুলোকে ধাপে ধাপে সাঁজাতে চেষ্টা করি, সমাধান করার চেষ্টা করি।

এমনও দেখা গেছে , অনেক পাঠক তো রীতিমত কাগজ কলম নিয়ে বসে যায় জীবনের বিভিন্ন রকম জটিল রহস্য সমাধান করার জন্য। এছাড়াও বই গুলো নিয়ে আমরা অনেকের সাথে আলাপ করি, আমাদের চিন্তা, লেখকের চিন্তা ব্যক্ত করার চেষ্টা করি।

এইসবই কিন্তু আমাদের চিন্তাশক্তিকে বৃদ্ধি করে।এবং আমাদের Internal Power কে আরো  শক্তিশালী করে তোলে।

৭। একাগ্রতা বৃদ্ধি ও  মনঃসংযোগ বৃদ্ধি

বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতা বা গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং এর যুগে, একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আমাদের একাগ্রতা বা মনঃসংযোগের ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমরা যদি একটু খেয়াল করি, তাহলে বুঝতে পারবো, ফেসবুকে একসময় আমরা দীর্ঘ বা বড় ভিডিও দেখতাম, কিন্তু সেখান থেকে আমরা ছোট্ট রিলসে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। 

মনঃসংযোগ
মনঃসংযোগ

 আমরা সারাদিন ফেসবুক ব্যবহার করি, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই দিন শেষে বলতে পারবো না, আজকে ফেসবুকে কি কি বিষয় আমরা দেখেছি ! শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি। প্রযুক্তি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে।কেড়ে নিয়েছে বেশ  কিছু মূল্যবান জিনিস। 

যেমন– আমাদের কাছ থেকে কেঁড়ে নিয়ে গেছে একাগ্রতার মত গুন। যেকোনো কাজে একাগ্রতা অত্যাবশক একটি ব্যাপার। একাগ্রতা দিয়ে অনেক বড় বড় কাজ অতীতে হয়েছে। যা দিন দিন আমাদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

যখন আমরা বই পড়ি, তখন আমরা অন্যসব কিছু থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে পারি, একাগ্রভাবে গল্পের বা বইয়ের মধ্যে ডুবে যেতে পারি। যা আমাদের একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ব্যাপকভাবে।

৮। ভালো লেখার দক্ষতাঃ

পড়া এবং লেখা একে অপরের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। পড়ার মাধ্যমে আমাদের ভাষা ও শব্দের জ্ঞান বাড়ে আর এই জ্ঞান আমাদের লেখনীশক্তিকে বৃদ্ধি করে। এই জন্যই বলে, লেখক হতে গেলে আগে অনেক অনেক পড়তে হবে, এরপর লিখতে হবে।

 আমরা যত বেশি ভালো ভালো লেখক এর, ভালো ভালো বই পড়তে পারবো, আমাদের সৃষ্টিশীল ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে আমাদের সৃষ্টিশীল লেখাও। আমরা যদি আমাদের বই পড়ার সময়টাকে আস্তে আস্তে একটা অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, আস্তে আস্তে দেখা যাবে আমাদের চালচলন, কথাবার্তা, এমনকি আমাদের বিভিন্ন লেখাতেও সেই ছাপ পড়তে শুরু করেছে। এবং অন্যদের কাছে আপনার গুরুত্ব বাড়তে শুরু  করেছে। 

প্রশান্ত মন, আদর্শ মন
প্রশান্ত মন, আদর্শ মন

৯। মনের শান্তি

বর্তমান সময়ে বই পড়ার সবথেকে বড় উপকার যদি চিন্তা করা যায় তাহলে দেখা যাবে–, বই পড়ার কারণে আমরা যে মানসিক প্রশান্তি পাই, সেটাই অনেক বড়।অনেক উৎকৃষ্ট। বই না পড়েপড়ার আমরা হয়তো ডিজিটাল ডিভাইসের পিছনে অনেকসময়  ব্যয় করতে পারতাম,কিন্তু সেটা না করে আমরা যে ভালো কিছু পড়েছি, কিছু শিখেছি, এই চিন্তা   আমাদের মনে এক অমোঘ প্রশান্তির   বাতাবরণ সৃষ্টি করে ।সেটা কি অমূল্য নয় ? এই প্রশান্তি লাখ টাকা খরচ করেও মিলবে না। 

বই মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে ,, সে সম্পর্কে আরো জানার জন্য আচার্য হরিনাথ দের জীবনীটা একবার দেখে নিলে বইয়ের গুরুত্ব ভালোভাবে আমাদের কাছে ধরা দেবে। এখানে ক্লিক করে আচার্য হরিনাথ দেব জীবনচর্যাটা দেখে নিতে পারেন। আমার বিশ্বাস এতে আপনি সমৃদ্ধ হবেন।

১০। বিনোদনের নব দিগন্ত 

বই পড়ে উপরের সবগুলো উপকার তো আমরা পাচ্ছিই, পাশাপাশি  বই হল ,এটা আমাদের একটা বিনোদনের  উৎকৃষ্ট মাধ্যম। সবথেকে সস্তা কিন্তু কার্যকরী মাধ্যম। একটি ভাল গল্প, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের মনকে এক নিমেষে আন্দোলিত ও বিনোদিত করে ।সেজন্যেই এটা বিনোদনের সর্বোত্তম পথ  ও বটে। নির্মল ও শান্তিময় বিনোদন হলো – বই পড়া। 

সেজন্য আমাদের উচিত, আমাদের জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও, কিছুটা সময় বের করে যাতে আমরা বই পড়তে পারি, সেদিকে বিশেষ যত্নবান হওয়া। বই পড়লে মানুষের মধ্যে যে ধরনের ডেভেলপমেন্ট ঘটে তার কিছু ঝলক আমরা দেখে নিতে পারি– 

  • বই মানুষকে আলোর পথ দেখায়, সুন্দর জীবন যাপনের কৌশল শেখায়।।
  • ই পড়লে মানসিক বিকাশ সাধন হয়, মনের প্রশান্তি পাওয়া যায়,শব্দের ভাণ্ডার বৃদ্ধি পায়,সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়, চারিত্রিক গঠন হয়,সামাজিক দায়বদ্ধতা জন্মায়, ,যারা একটু উচ্চস্বরে বই পড়েন তাদের উচ্চারণ স্পষ্ট হয় এবং ভালো পাঠক হয়। যদি ও বা বিভিন্ন বই এর গুণাবলী ভিন্ন। তা সত্ত্বেও বলতে পারি উন্নত চিন্তা শক্তির সহায়ক বই
  • বই পড়লে মস্তিষ্কের যে সুন্দর ব্যায়াম হয় সেই সুন্দর শান্তি সকলেরই কাম্য ।
  • বইয়ের বিকল্প কিছু নেই
  • বই আপন বন্ধু
  • বই আমাদের জীবন কে পরিবর্তন করে দিতে পারে 
  • বেলা ফুরাবার আগে বই আমাদের নিজেকে চিনতে সাহায্য করে
  • বই কেন পড়বো না বা বই না পড়লে কি হয় ! সেটাও আমাদের ভালো করে জানা উচিত !!
  • জীবনের Reality ও Fact খুব ই কঠিন সেই Reality ও Fact কে সুন্দর ও সরল করে বুঝতে । Real world কে positive ভাবে ভাবনার উৎস কেবল বই পড়া ।
  • কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, বই পড়া একটা শিল্প ।যার জন্য প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন, তা সবাইকে দিয়ে হয় না এবং হবেও না।
  • বই মস্তিষ্ক এবং মন দুইই সুস্থ রাখে।
  • বই হাতে নিলে ঘুমটা ভালো হয়।
  • জীবন সুন্দর করার জন্য বই-এর গুরুত্ব অপরিসীম ।
  • থার্ড আই স্ট্রং, মানসিক শান্তি ও তৃপ্তি লাভের প্রকৃত বন্ধু হল বই ।
  • ❝রাতের আহার ত্যাগ করো না, যদি তা এক মুঠো খেজুরও হয়। কারণ রাতের আহার ত্যাগ মানুষকে বৃদ্ধ করে দেয়!❞ তেমনি বই না পড়া মানুষ ও জ্ঞানের দিক থেকে দৈনই থেকে যায়।

উপরোক্ত লেখাটি ফেসবুক ফ্রেন্ড পিউ মান্নার ( Piu Manna) একটা লেখায় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রস্তুত করা, আমার মনে হয়েছে এই ধরনের লেখা আমার পাঠকদেরও ভালো লাগবে।

বেশ কয়েকদিন আগে একটা লেখা চোখে পড়ল, বলা যেতে পারে লেখাটা লেখাটাতে চোখ আটকে গেল, আমার পাঠকদের জন্য লেখাটি শেয়ার করলাম।

ফেসবুকে সৌমেশ পাল নামক জনৈক ব্যক্তি লিখেছেন…..

নিউজপেপারে কিছুদিন আগে এই ছবিটি এবং খবরটি দেখলাম। ছবিটি বাঙ্গালোরের কাবন পার্কের। এখানে এক দারুণ ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। চুপচাপ বই পড়ে যাওয়া পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত। অর্থাৎ পড়ার মতো কিছু, যেমন বই, নিউজপেপার এমনকি রিসার্চ পেপার পর্যন্ত এখানে নিয়ে চলে আসা যায়, পছন্দমতো জায়গা বেছে নিয়ে চাদর পেতে বসে বা গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়া শুরু করা যায়।

কাগজের বইই হতে হবে, এমন কোনো মানে নেই। কিন্ডেল, ট্যাব, ল্যাপটপও পড়ার মাধ্যম হতে পারে। তবে যাইহোক শব্দ করা চলবে না। অর্থাৎ ফোন ধরা টরা থেকে দূরে থাকতে হবে।

পরিচিত কারো সাথে দেখা হলেও সৌজন্যমূলক কথাও বলা যাবে না। পড়ার সময় পাঁচ ঘন্টা, মাঝে একটা বিরতি আছে সেই সময়ে কথা বলতে পারেন, খাওয়া দাওয়া সেরে নিতে পারেন; তারপর আবার পড়া। চুপচাপ বই পড়ার এই ট্রেন্ড আরোও কিছু শহরে শুরু হয়েছে বাঙ্গালোরের দেখাদেখি।

নানান ধরনের ট্রেন্ড ভাইরাল হতে দেখেছি আগে। একবার তো সেই “ধর্না দিয়ে বিয়ে”র ট্রেন্ড পর্যন্ত দেখলাম। কখনও কোনো ট্রেন্ডে আগ্রহী হইনি। কিন্তু আজ আগ্রহ হচ্ছে। আমি চাইছি এই ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ুক দিকে দিকে। আমার কাছাকাছি কোথাও চলে আসুক এই ট্রেন্ড; অন্তত একটা দিন গাছের ছায়ায় অন্য পাঠকদের ভিড়ে হারিয়ে কয়েক পাতা কিছু অক্ষর পড়ে আসি।

পড়ুন  যেভাবে ইচছা ।
পড়ুন যেভাবে ইচছা ।

Leave a Comment